সাধারন লাল মাকড় - কিশমিশ

কিশমিশ

সাধারন লাল মাকড়

Tetranychidae


সংক্ষেপে

  • পাতার উপরে ক্ষুদ্র দাগ দেখা যায়.
  • কাণ্ড ও পাতার মধ্যে ছোট জাল দেখা যায়.
  • পাতা শুকিয়ে যায়।.

লক্ষণ

ক্ষুদ্র মাকড়ের খাওয়ার ফলে পাতার উপরের পৃষ্ঠে সাদা থেকে হলুদ ছিট ছিট দাগ দৃশ্যমান হয়। ডিম, পাতার নিচের পৃষ্ঠে আঠা দিয়ে আটকে থাকে। এই মাকড় সেখানেই জালের মতো গুটি তৈরি করে বাস করে। যখন আক্রমণ চরমে পৌঁছায়, পাতা প্রথমে ব্রোঞ্জ বা রূপালী রঙের হয় ও পরে ভঙ্গুর হয়ে যায়, শিরার মধ্যে দিয়ে চিরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত গাছ থেকে ঝরে পড়ে যায়। এ মাকড় একধরনের জাল বোনে যা গাছের অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করে। মঞ্জরীর আগার দিকে ন্যাড়া হয়ে যায় এবং পার্শ্বভাগ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। চরম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায়, ফলনের পরিমান ও গুণমান হ্রাস পায়।

ট্রিগার

পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী মাকড় ০.৬ মিলিমিটার লম্বা হয়, ডিম্বাকৃতি দেহে দুটো গাঢ় দাগসহ শরীর হালকা সবুজ রঙের হয় এবং পিছনের দিকে লম্বা রোম দেখা যায়। যে স্ত্রী মাকড় শীতঘুম দিয়ে কাটায় তাদের দেহ লালচে হতে দেখা যায়। বসন্তকালে, স্ত্রী মাকড় পাতার নিচের দিকে বর্তুলাকার ও স্বচ্ছ ডিম পাড়ে। শিশু মাকড়ের দেহ হালকা সবুজ রঙের হয় ও পৃষ্ঠদেশে গাঢ় দাগ দেখা যায়। পাতার নিচের পৃষ্ঠতলে ককুনের মধ্যে এই মাকড় নিজেদের সুরক্ষিত রাখে। শুকনো ও উষ্ণ আবহাওয়াতেও এ মাকড় বেঁচে থাকতে পারে এবং এই ধরনের আবহাওয়াতেও এক বছরে ৭টি পর্যন্ত প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটে। এ মাকড়ের আবাস হিসাবে আগাছাসহ অনেক বিকল্প উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া যায়।

জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

সামান্য আক্রমণে মাকড়কে শুধু জল দিয়ে ধুয়ে অপসারণ করুন এবং আক্রান্ত পাতা তুলে ফেলে দিন। রেড়ি, তুলসী, সয়াবীন ও নিম তেলের মিশ্রন প্রস্তুত করে T. urticae-এর বংশবৃদ্ধি কমাতে পাতায় স্প্রে করুন। এছাড়াও রসুন চা, বিছুটি পাতার কাঁই বা কীটনাশক সাবানের দ্রবণ ব্যবহার করে এ মাকড়ের বংশবৃদ্ধি কমানো যায়। মাঠে মাকড়ের প্রজাতি অনুসারে জৈব নিয়ন্ত্রক সহ শিকারী মাকড়সাকে কাজে লাগান (উদাহরণ হিসাবে ফাইটোসেইউলাস পারসিমিলিস) বা জৈব কীটনাশক ব্যাসিলাস থিউরিনজিয়েনসিস ব্যবহার করুন। প্রাথমিক স্প্রে করার ২-৩ দিন পরে দ্বিতীয় স্প্রে প্রয়োগ করাটা জরুরী।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সম্ভবমতো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। এ মাকড়কে বিষাক্ত দ্রব্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কষ্টকর কারণ অধিকাংশ প্রজন্মের মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা বিভিন্ন রাসায়নিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। খুব সাবধানে রাসায়নিক নিয়ন্ত্রক নির্বাচন করুন (উদাহরন হিসাবে সালফার বা অ্যাবামেকটিন সমৃদ্ধ ছত্রাকনাশক) যাতে এ মাকড়ের শিকারী পতঙ্গকে তা নির্বিচারে ধ্বংস না করে। প্রাথমিক স্প্রে ব্যবহার করার ২ থেকে ৩ দিন পরে দ্বিতীয়বার স্প্রে প্রয়োগ করা জরুরী।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • পাওয়া গেলে প্রতিরোধী জাত রোপন করুন.
  • জমি তদারকি করুন এবং আক্রান্ত গাছ অপসারণ করুন.
  • বিছুটি ও অন্যান্য আগাছা জমি থেকে উৎপাটিত করুন.
  • কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন যাতে উপকারী পতঙ্গ বেড়ে উঠতে পারে।.