পাতার সুড়ঙ্গ সৃষ্টিকারী মাছি - সয়াবিন

সয়াবিন

পাতার সুড়ঙ্গ সৃষ্টিকারী মাছি

Agromyzidae


সংক্ষেপে

  • পাতার উপরে অনিয়মিত ধূসর সর্পিল রেখা দেখা যায় যা পত্রশিরা দিয়ে ঘেরা থাকে.
  • পাতার অকাল পত্রমোচন হতে পারে।.

লক্ষণ

কীড়াপোকা খাওয়ার ফলে পাতার উভয় পাশেই অনিয়মিত বা সর্পিল হালকা ধূসর বর্ণের রেখা দেখা যায়। এ সুড়ঙ্গগুলো পত্রশিরা দ্বারা ঘেরা থাকে এবং সুড়ঙ্গের মধ্যে কালো রঙের বিষ্ঠার সামান্য নমুনা দেখেই এ মাছির উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। সমস্ত পাতা সুড়ঙ্গগুলো দ্বারা ছেয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হলে অকালে পত্রমোচন (defoliation) হতে পারে। পত্রমোচন হলে ফলের আকার ছোট হয়, ফলন কম হয় এবং সূর্যের তাপে নষ্ট হয়।

ট্রিগার

সুড়ঙ্গ সৃষ্টিকারী মাছি পৃথিবীব্যাপী মাছির কয়েক হাজার প্রজাতির মধ্যে একটা বর্গের অন্তর্গত। বসন্তকালে, এরা পাতার নিচের পৃষ্ঠে ডিম পাড়ে। কীড়াপোকা পাতার উপর ও নিচের পৃষ্ঠ থেকে খেতে থাকে। এরা আঁকাবাঁকা সুড়ঙ্গপথ কেটে এগোতে থাকে এবং খাওয়ার পর পিছনে নমুনা হিসাবে কালো রঙের বিষ্ঠার চিহ্ন রেখে যায়। এ মাছি মাটিতে, উদ্ভিদের টুকরো অবশিষ্টাংশে বা আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের ঝরে যাওয়া পাতার মধ্যে আত্মগোপন করে থাকে। সুড়ঙ্গ সৃষ্টিকারী মাছি পোকা হলুদ রঙের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

সামান্য আক্রমণে শুধু উদ্ভিদের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে কিছু খুঁত থেকে যায়, ফলনের উপরে কোন প্রভাব পড়ে না। পরজীবি বোলতা সুড়ঙ্গকারী মাছির লার্ভাকে সুড়ঙ্গের মধ্যেই মেরে ফেলে এবং এ বোলতা বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায়। লেডিবার্ড সুড়ঙ্গকারী মাছির শিকারী পোকা হিসাবে পরিচিত। নিম তেল, নিম তেলের নির্যাস ( এনএসকেই ৫% ) বা নিম তেল ( ১৫০০০ পিপিএম) @ ৫এম এল/লি বা স্পিনোস্যাড স্প্রে করলে পূর্ণাঙ্গ মাছির খাওয়াতে বাধা পড়ে, ফলস্বরূপ ডিম পাড়ার সংখ্যা কমে যায় এবং আক্রমণ কম হয়। এ সমস্ত দ্রব্য এ প্রাকৃতিক শত্রু ও পরাগায়নকারী পতঙ্গের উপর সামান্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সম্ভবমতো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। অর্গানোফসফেট, কার্বোনেট ও পাইরিথ্রয়েডস জাতীয় বৃহৎ পরিসরে ব্যবহৃত কীটনাশক পূর্ণাঙ্গ মাছিকে ডিম পাড়তে বাধা দেয়, কিন্তু এরা কীড়াপোকাকে মেরে ফেলতে পারে না। উপরন্তু, এ ধরনের কীটনাশক এ মাছির প্রাকৃতিক শত্রুদের সংখ্যাও কমিয়ে দেয় এবং মাছির মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে এ মাছির সংখ্যা বেড়ে যায়। অ্যাবামেকটিন, বাইফেনথ্রিন, মেথোক্সিফেনোজাইড, ক্লোরাট্র্যানিলিপ্রোল বা স্পাইনেটোরাম ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে এ মাছির মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা না বাড়তে পারে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • সুড়ঙ্গ সৃষ্টিকারী মাছি থেকে মুক্ত এ ধরনের চারাগাছ রোপন করুন.
  • এ পোকার প্রতি স্বল্প অসহনশীল কোঁকড়ান পাতাবিশিষ্ট জাত পছন্দ করুন.
  • যে মাঠে রোগ লক্ষণ দেখা গিয়েছে তার পাশেই এ মাছির বিকল্প আশ্রয়দাতা হিসাবে চিহ্নিত কোন ফসল রোপন করবেন না.
  • মাঠ নিয়মিত তদারকি করুন এবং সুড়ঙ্গরেখা চিহ্নিত পাতা বা চরমভাবে আক্রান্ত উদ্ভিদ দেখলেই হাত দিয়ে তা তুলে নিয়ে ধ্বংস করে দিন.
  • হলুদ আঠালো পটি বা জলভরা হলুদ গামলা ফাঁদ হিসাবে ব্যবহার করুন.
  • জমির চারপাশে ফুলের গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক বেড়া তৈরি করুন.
  • এ মাছিকে আশ্রয়দান করে না এমন ফসল লাগিয়ে শস্য আবর্তন করুন.
  • যথেচ্ছভাবে কীটনাশকের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন.
  • মাটিতে যাতে এ মাছি বংশবৃদ্ধি করতে না পারে সেজন্যে গাছের চারিদিকে মালচ্‌ প্রয়োগ করুন.
  • চাষ দিয়ে সুড়ঙ্গ সৃষ্টিকারী মাছিকে প্রাকৃতিক শত্রুদের সামনে উন্মুক্ত করে দিন.
  • আক্রান্ত গাছের অংশ পুড়িয়ে ফেলুন এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ যাতে এ মাছির সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল না হতে পারে সেজন্য এগুলোকেও ধ্বংস করে দিন।.