চারাগাছের ডাম্পিং-অফ রোগ

  • লক্ষণ

  • ট্রিগার

  • জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

  • রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

  • প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

চারাগাছের ডাম্পিং-অফ রোগ

Pythium spp.

ছত্রাক


সংক্ষেপে

  • অঙ্কুরোদগমের প্রাথমিক পর্যায়ে, মাটির ভিতর বীজ শুকিয়ে যায় কিংবা চারাগাছ হওয়ার পূর্বে তা মারা যায়.
  • অঙ্কুরোদগমের পরবর্তী পর্যায়ে জলসিক্ত কাণ্ড এবং ধূসর, বাদামি বা কালো বর্ণের কোষকলার উপস্থিতি কাণ্ডের গোড়ায় পরিলক্ষিত হয়.
  • কচি চারা কিংবা গাছে মাটির উপরিতল বরাবর ফাটল দেখা যায় এবং সাদাটে বা ধূসর বর্ণের মোল্ড ফাটলের চারিদিক ঘিরে ফেলে।.

আবাস:

শিম

লঙ্কা ও কাঁচা মরিচ

গাজর

মটর

শসা

কুমড়া

ধুন্দুল

টমেটো

বাঁধাকপি

লেটুস

আলু

ছোলা ও বুট

গম

পেঁয়াজ

ভুট্টা

চিনাবাদাম

আম

পেঁপে

বার্লি

তরমুজ

সুগার বিট

মসূর

শোভাবর্ধক

plant_turmeric

লক্ষণ

ডাম্পিং-অফ চারাগাছে দুটি পর্যায়ে ঘটতে পারে, অঙ্কুরোদগম পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পর্যায়ে। অঙ্কুরোদগমের পূর্ববর্তী পর্যায়ে, বীজ বপন করার পরেই ছত্রাক বীজকে ঘিরে ফেলে, ফলে বীজ শুকিয়ে যায় এবং অঙ্কুরোদগম বাধাগ্রস্থ হয়। অঙ্কুরোদগম পরবর্তী পর্যায়ে, বীজগুলো দুর্বলভাবে বৃদ্ধি পায় এবং কাণ্ডের গোড়া শুকিয়ে যায় এবং এরই সাথে নরম এবং জলসিক্ত লিকলিকে কাণ্ডে ধূসর, বাদামী বা কালো ক্ষত দৃশ্যমান হয়। কচি চারা বা গাছ ক্লোরোফিল শূন্য হয়ে পড়ে এবং অবশেষে নেতিয়ে যাওয়া শুরু করে, দেখলে মনে হয়ে যেন গাছটি গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। মৃত গাছপালা বা মাটির পৃষ্ঠে সাদা বা ধূসর মোল্ড বৃদ্ধি পায়। যখন চারাগাছে ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক হয়, তখন পুনরায় চারা রোপণ করার দরকার হতে পারে।

ট্রিগার

ডাম্পিং-অফ বিভিন্ন ধরনের ফসলে ক্ষতি করতে পারে এবং এটি পিথিয়াম জাতের ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে, পিথিয়াম ছত্রাক মাটি বা উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশে বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে। আবহাওয়া উষ্ণ থাকলে এবং বৃষ্টির পর পর ছত্রাক বিস্তার লাভ করে, মাটি অত্যধিক আর্দ্র থাকলে ছত্রাক আরও ঘনীভূত হয়। জল জমে থাকা বা অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মতো ধকল, চারাকে দুর্বল করে এবং রোগের বিকাশ ত্বরান্বিত করে। স্প্রে করার পর দূষিত সরঞ্জাম এবং জামাকাপড়ের কাদা বা জুতার মাধ্যমেও স্পোর বাহিত হয়। যদিও এ ছত্রাক ফসলের সমগ্র জীবনচক্রব্যাপী আক্রমণ করতে পারে, তবে অঙ্কুরোদগমশীল চারা বা নতুন চারা বেশি সংবেদনশীল। এ রোগ একই জমিতে এক ঋতু থেকে অন্য ঋতুতে পরিবাহিত হয় না, বরং এটি অনুকূল স্থান ও সময় অনুযায়ী সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে।

জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

ট্রাইকোডার্মা ভিরিডি, বিউভেরিয়া ব্যাসিয়ানা বা ব্যাকটেরিয়া সিউওডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স এবং ব্যাসিলাস সাবটিলিস সংগঠিত জৈব ছত্রাকনাশক দ্বারা বীজ শোধন করা যায় অথবা রোপণের সময় মূলের আশেপাশে অঞ্চলে প্রয়োগ করুন, ইহা অঙ্কুরোদগমের প্রাথমিক পর্যায়ে চারাগাছের ডাম্পিং-অফ দমনে কার্যকর। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক, যেমন কপার অক্সিক্লোরাইড বা বোর্দো মিশ্রন প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করলে রোগের মাত্রা এবং তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। ইউপোটিরিয়াম ক্যানাবিনাম রস সম্বলিত দ্রবণ পুরোপুরিভাবে ছত্রাক বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। "ধূমায়িত-জল" (উদ্ভিদ উপাদান পুড়িয়ে ও তা জলে দ্রবীভূত করে প্রস্তুত) দিয়ে জলসেচ দিলে ছত্রাক দমনে তা ভাল কাজ করে।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সম্ভবমতো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। রোগ প্রতিরোধে সর্বোত্তম উপায় হিসেবে জমিতে কাজ করার সময় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিন এবং সতর্কতা অবলম্বন করুন। পূর্ব থেকে অনুমিত ডাম্পিং-অফ বা জল নিষ্কাশনের সমস্যাগুলোর কথা চিন্তা করে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন। অঙ্কুরোদগমের প্রাথমিক পর্যায়ে চারাগাছের ডাম্পিং-অফ দমনে থিরাম ব্যবহার করে বীজ চিকিৎসা করুন। মেটাল্যাক্সিল, মেটাল্যাক্সিল-এম বা মেঘলা আবহাওয়া চলাকালীন সময়ে প্রোপামোকার্বের দ্রবণ স্প্রে করুন। বপনের পর থেকে প্রতি পনেরো দিন পর পর, মাটি বা গাছের গোড়ায় কপার অক্সিক্লোরাইড বা ক্যাপ্টান প্রয়োগ করে গাছ জলসিক্ত করুন ।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • সুস্থ-সবল গাছ বা প্রত্যায়িত উৎস থেকে সংগৃহীত বীজ ব্যবহার করুন.
  • সম্ভব হলে রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করুন.
  • যে জমিতে নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত নয় বা কাদামাটিযুক্ত সেখানে উঁচু করে বীজতলা তৈরি করুন.
  • বীজ বা চারা এমন ভাবে রোপণ করুন যাতে পরস্পরের মধ্যে বিস্তৃত স্থান থাকে ও ফলস্বরূপ পত্রপল্লব শুকিয়ে যায়.
  • মাটির বেশি গভীরে চারা রোপণ করবেন না.
  • প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে আক্রান্ত গাছ অপসারন করুন.
  • কয়েক দফায় নাইট্রোজেন সার দিন এবং একটি সুষম সার প্রয়োগ পদ্ধতি অনুসরন করুন.
  • নিয়মিত ভাসাভাসা ভাবে জলসেচ দিন.
  • সকাল সকাল জলসেচ দিন যাতে সন্ধ্যার সময় মাটি শুকিয়ে যায়.
  • জলসেচনে রিং পদ্ধতি অবলম্বন করুন যাতে কাণ্ডের সাথে সরাসরি জল স্পর্শ না করে.
  • সতর্ক দৃষ্টি রাখুন যাতে অসাবধানবশতঃ এক জমির কাদামাটি অন্য জমিতে না যেতে পারে.
  • ঘরে ব্যবহার করার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে চাষের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করুন.
  • ফসলের অবশিষ্টাংশ ফসল সংগ্রহের পরপরই অপসারন এবং ধ্বংস করে ফেলুন.
  • অনাবাসী উদ্ভিদ দিয়ে ফসল আবর্তন করার পরিকল্পনা করুন.
  • সম্ভব হলে প্লাস্টিক মালচ্‌ ব্যবহার করে বীজতলার মাটিকে সূর্যের রশ্মিতে উন্মুক্ত করে দিন।.