টমেটোর দাগাঙ্কিত উইল্ট ভাইরাস

  • লক্ষণ

  • ট্রিগার

  • জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

  • রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

  • প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

টমেটোর দাগাঙ্কিত উইল্ট ভাইরাস

TSWV

ভাইরাস


সংক্ষেপে

  • পাতায় ঘন বাদামী দাগ পড়ে এবং ধীরে ধীরে সেখানে মৃত কোষকলার ছোপ দেখা যায়.
  • বর্ধনশীল ডগার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং কোষকলা পচে যায়.
  • অপরিপক্ক ফলে হালকা সবুজ রঙের বিচিত্র বলয় দেখা যায়.
  • পাকা ফলে হলুদাভ দাগ এবং বাদামী বলয় দেখা যায়.
  • কখনও কখনও ফলের বিকৃতি ঘটে।.

আবাস:

লঙ্কা ও কাঁচা মরিচ

টমেটো

আলু

লক্ষণ

সংক্রমণের পর্যায়ে এবং আবহাওয়ার অবস্থার উপর নির্ভর করে পাতা, বোঁটা, কাণ্ড এবং ফলে প্রকাশিত লক্ষণে ভিন্নতা দেখা যায়। শীর্ষ থেকে গোড়ার দিকে রোগের বিস্তার ঘটে। কচি পাতায় ছোট ছোট, ঘন বাদামী দাগ দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে এককেন্দ্রিক বলয়ের রূপ ধারণ করে। একসময় সেগুলো মিলিত হলে পত্রফলকের বড় অংশজুড়ে ছোপ ছোপ দেখা যায় এবং কোষকলা পচে যায়। কখনও কখনও কাণ্ড এবং বোঁটায় ঘন বাদামী রঙের ডোরাদাগ দেখা যায়। বর্ধনশীল ডগা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়, তাদের ভেতরের কোষকলা পচে যায়। চারাগাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় বা শুধুমাত্র এক পাশে বৃদ্ধি হতে দেখা যায়। মারাত্মকভাবে সংক্রমিত চারাগাছ হালকা সবুজ বলয়যুক্ত বিচিত্র এবং স্ফীত কেন্দ্রবিশিষ্ট অপরিপক্ক টমেটো ধারণ করে। পাকা অবস্থায়, লাল ফলে হলুদাভ দাগযুক্ত বাদামি বলয় এবং ফুসকুড়ি ফলকে বাজারজাতকরণের অনুপযোগী করে তোলে।

ট্রিগার

টমেটোর দাগযুক্ত নেতিয়ে পড়া জনিত ভাইরাস থ্রিপসের বিভিন্ন প্রজাতির মাধ্যমে ছড়ায় যাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ওয়েস্টার্ণ থ্রিপস (ফ্রাঙ্কলিনেলা অসিডেন্টালিস), পেঁয়াজের থ্রিপস (থ্রিপস ট্যাবাসি) এবং মরিচের থ্রিপস (স্কিরটোথ্রিপস ডরসালিস)। টমেটোর দাগযুক্ত নেতিয়ে পড়া জনিত ভাইরাস বাহক থ্রিপসের দেহেও সক্রিয় থাকতে পারে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে ছড়াতে পারে। যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক থ্রিপস সংক্রমিত চারাগাছের রস শোষণ করে খায়, তাদেরও বাকী জীবন ধরে ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষমতা থাকে। যাইহোক, টমেটোর দাগাঙ্কিত উইল্ট ভাইরাস সংক্রমিত স্ত্রী পোকা থেকে ডিমে ছড়ায় না। এ ভাইরাসের রয়েছে বিস্তৃত আবাস যাদের মধ্যে আছে টমেটো, মরিচ, আলু, তামাক, লেটুস এবং আরও অন্যান্য অনেক গাছ।

জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

বাণিজ্যিকভাবে কিছু শিকারী মাকড়সা পাওয়া যায় যেগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক থ্রিপসকে খেয়ে ফেলে। থ্রিপস-এর যেসব প্রজাতি ফুলে আক্রমণ না করে পাতায় আক্রমণ করে তাদের বিরুদ্ধে নিমের তেল বা স্পিনোস্যাড (ব্যাক্টেরিয়া থেকে প্রাপ্ত একপ্রকারের কীটনাশক) ব্যবহার করুন। বিশেষ করে পাতার নিচের পৃষ্ঠে। স্পিনোস্যাডের ব্যবহার খুবই কার্যকরী কিন্তু কিছু বিশেষ প্রাকৃতিক শত্রুদের (যেমন- শিকারী মাকড়সা, সিরফিড মাছি বা হোভার মাছির শূককীট, মৌমাছি) ক্ষেত্রে তা বিষাক্ত হতে পারে এবং ফুল ধারণ সময়কালে এটা ব্যবহার করা উচিত নয়। ফুলে থ্রিপসের আক্রমণের ক্ষেত্রে কিছু শিকারী মাকড়সা বা সবুজ লেইসউইং-এর শূককীট ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুনের নির্যাসের সাথে কীটনাশকের মিশ্রণও উপকারী।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সর্বদা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করুন যেখানে সম্ভব হলে, জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। উচ্চ প্রজনন হারের এবং তাদের জীবনচক্রের কারণে থ্রিপস বিভিন্ন শ্রেণীর কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছে। কার্যকরী স্পর্শক জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করুন যাদের মধ্যে আছে নিম, কীটনাশক সাবান, স্বল্প পরিসরে কার্যকর তেল এবং পাইরেথ্রিনস, যাতে পিপারোনিল বিউটোক্সাইডের সাথে আরও অনেক কিছু মিশ্রিত থাকে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • নার্সারী থেকে চারা এনে রোপন করুন যেগুলোতে থ্রিপস এবং টমেটোর দাগযুক্ত নেতিয়ে পড়া জনিত ভাইরাস রোগের সঠিক পরিচর্যা করা হয়েছে.
  • বিকল্প আবাস বা ভাইরাস সংক্রমিত চারার নিকটে রোপন করা এড়িয়ে যেতে হবে.
  • চারা রোপনের পর নিয়মিত পরিদর্শন করে থ্রিপস-এর উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হোন.
  • রোগ প্রতিরোধী জাতের টমেটো চাষ করুন; কারণ ভাইরাস ছড়ানো প্রতিরোধ করার জন্য থ্রিপস দমনে এসব চারা গাছে কোন কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না.
  • ব্যাপক সংখ্যায় ধরার জন্য বিরাট এলাকা জুড়ে আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করুন.
  • মাঠের ভেতরের এবং চতুর্দিকের আগাছা দমন করুন.
  • সংক্রমিত চারা এবং গাছের যেকোন অবশিষ্টাংশ অপসারণ করে ধ্বংস করুন.
  • চারাগাছে পর্যাপ্ত জল সেচ দিন এবং নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বর্জন করুন.
  • আবাদের অন্তবর্তীকালীন সময়ে গ্রীণহাউজে ধোঁয়া ব্যবহার করেও তা জীবাণুমুক্ত করতে পারেন.
  • থ্রিপস তাড়াতে উচ্চ প্রতিফলন ক্ষমতাসম্পন্ন অতিবেগুনী মালচ (ধাতব মালচ) ব্যবহার করুন।.