টমেটোর ব্যাকটেরিয়াজনিত ক্যাঙ্কার

  • লক্ষণ

  • ট্রিগার

  • জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

  • রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

  • প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

টমেটোর ব্যাকটেরিয়াজনিত ক্যাঙ্কার

Clavibacter michiganensis subs. michiganensis

ব্যাকটেরিয়া


সংক্ষেপে

  • পুরাতন পাতায় শিরার অভ্যন্তরে ক্লোরোফিলের অভাবজনিত হলুদ রং ধারন, পাতা কুঁকড়িয়ে যাওয়া বা নিস্তেজ হয়ে পড়া, কখনো কখনো পাতার কেবলমাত্র এক পাশে অনুরূপ লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়.
  • পাতা বাদামী হলেও, পত্রবৃন্ত সবুজ থাকে.
  • পাতা কাণ্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং ফলের গায়ে বাদামী বর্ণের অস্বচ্ছ বলয়াকার দাগ দেখা যায়.
  • পচে যাওয়া বৃন্তে কিছু লম্বা সরু রেখা দেখা যায়, যা পরবর্তীতে ফেটে গিয়ে ক্যাঙ্কার তৈরী করে।.

আবাস:

টমেটো

লক্ষণ

আক্রান্ত চারাগাছ থেকে দুর্বল ও বামনাকৃতির গাছ জন্মায়,পাতার শিরা ও বৃন্তের উপর ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়। বাড়ন্ত গাছের নতুন টিস্যুতে (সিস্টেমিক) প্রাথমিক সংক্রমণের কারণে অথবা পরবর্তী ধাপের সংক্রমণের কারণেও রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। পুরাতন পাতার শিরার অভ্যন্তরে ক্লোরোফিলের অভাব, কুঁকড়িয়ে যাওয়া বা নিস্তেজ হয়ে পড়া (কখনো কখনো কেবল এক পাশে) সিস্টেমিক সংক্রমণ এ রোগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ফলতঃ পাতা বাদামী হয়ে ঝরে পড়ে। পত্রবৃন্ত দেখতে সবুজই থাকে এবং কাণ্ডের সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে। প্রাথমিক সংক্রমণের বড় লক্ষণ হচ্ছে পাতার ধারে গাঢ় বাদামী রঙের দাগ এবং পত্রফলকে অস্বচ্ছ উজ্জ্বল দাগের উপস্থিতি। বৃন্তের গোড়া পচে যায় এবং উপরের অংশে গাঢ় বাদামী ও বাদামী রঙের লম্বালম্বি রেখা দেখা দেয়। কাণ্ড ফেটে বাদামী বর্ণের লম্বা রেখাসম্বলিত ক্যাঙ্কার তৈরী করে। ফলের ত্বকে উজ্জ্বল , অস্বচ্ছ বলয়াকার বাদামী দাগ দেখা যায়। রোগ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ গাছ শুকিয়ে যায়।

ট্রিগার

বীজ, উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশ বা মাটির অভ্যন্তরে ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে। সংক্রমিত বীজ, মাটিতে বসবাসকারী জীবাণু অথবা উদ্ভিদের ডালপালা ছেঁটে দেওয়ার সময় রোগের বিস্তার হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া পাতার শিরায় বংশবৃদ্ধি করে জল এবং পুষ্টি উপাদানের সরবরাহে বাধার সৃষ্টি করে। যার ফলে, গাছ শুকিয়ে মরে যেতে থাকে। মাটিতে উচ্চ আর্দ্রতার উপস্থিতি বা বায়ুমন্ডলের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও উষ্ণ তাপমাত্রা (২৪ - ৩২°সেলসিয়াস) এ রোগ বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক হয়।

জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

অ্যাসেটিক অ্যাসিড (৮%) অথবা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দ্রবনে (৫%) বীজ পরিশোধন করুন। পরিশোধনের জন্য জল অথবা মিথাইল ব্রোমাইডও ব্যবহার করতে পারেন।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সম্ভবমতো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। ঘন ঘন বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্র আবহাওয়া প্রলম্বিত হলে, কপার সম্বলিত রাসায়নিক উপাদান স্প্রে করুন। এতে পাতার ক্ষয়রোগ এবং ফলের গায়ে দাগ পড়া কমে আসবে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • শংসাপত্র প্রাপ্ত এবং রোগমুক্ত বীজ ও চারাগাছ ব্যবহার করুন.
  • সম্ভব হলে, রোগ প্রতিরোধী জাত সংগ্রহ করুন.
  • চারাগাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাটির বদলে প্লাস্টিক ট্রেতে মাটিহীন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন.
  • সম্ভবমত বীজতলা এবং মাটি, বাষ্প দ্বারা জীবাণুমুক্ত করুন.
  • চাষাবাদের যন্ত্রপাতি ও কৃষি উপকরণ পরিচ্ছন্ন রাখুন.
  • সোলানেসী বর্গের আগাছা নির্মূল করুন.
  • আপনার জমি তদারকি করে রোগাক্রান্ত উদ্ভিদ গোড়া থেকে কেটে ফেলুন.
  • কমপক্ষে দুই বা তিন বছর সোলানেসী বর্গের নয়, এমন শস্য-চক্রে টমেটো চাষ করুন.
  • ফসল তোলার পর জমি গভীরভাবে কর্ষণ করুন যাতে রোগাক্রান্ত ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটির গভীরে চলে যায়।.