কলাইয়ের রূপালীসাদা মাছি

  • লক্ষণ

  • ট্রিগার

  • জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

  • রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

  • প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

কলাইয়ের রূপালীসাদা মাছি

Aleyrodidae

কীট


সংক্ষেপে

  • রূপালীসাদা মাছি পাতার নিচে দেখা যায় এবং গাছ নাড়াচাড়া করলে চারিদিকে উড়তে থাকে.
  • পত্রফলকে মৃত কোষ-কলার দাগ দেখা যায়.
  • পরে দাগগুলো একত্রিত হয়ে পর্যায়ক্রমে শিরা ব্যতীত পুরো পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে.
  • পাতা পরবর্তীতে কুঁচকে যায় অথবা কাপের মতো আকৃতি ধারণ করে।.

আবাস:

শিম

লঙ্কা ও কাঁচা মরিচ

বেগুন

চেরি

শসা

কুমড়া

ধুন্দুল

টমেটো

বাঁধাকপি

লেটুস

আলু

কালো ও সবুজ বুট

লাল ছোলা ও ডাল

ছোলা ও বুট

তুলা

সয়াবিন

অন্যান্য

পেঁয়াজ

জোয়ার

ভুট্টা

স্ট্রবেরি

কলা

সাইট্রাস

চিনাবাদাম

ম্যানিওক

আখ

তরমুজ

মসূর

ফুলকপি

শোভাবর্ধক

লক্ষণ

কীড়া ও বয়স্ক পোকা গাছের রস শোষণ করে এবং পত্রফলকে মৃত কোষ-কলার দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে সেখানে হানিডিউ জমা হয়ে স্যুটিমোল্ড রোগ তৈরি করে এবং দাগ আরও বিস্তৃত হয়। মারাত্মক সংক্রমণের কারণে দাগগুলো একত্রিত হয়ে শিরা ব্যতীত পুরো পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। পরবর্তীতে পাতা বিকৃত হয়ে কুঁচকে যায় অথবা কাপ আকৃতি ধারণ করে। রূপালী সাদা মাছি ভাইরাসও ছড়িয়ে থাকে, যেমন-টমেটোর হলুদ পাতা কার্ল ভাইরাস, কাসাভা বাদামী দাগ ভাইরাস।

ট্রিগার

রূপালীসাদা মাছি আকারে প্রায় ০.৮ মি.মি. হয়ে থাকে। মাছির শরীর এবং ডানা সাদা অথবা হলুদাভ পাউডারী মোমে আবৃত থাকে। এদের বেশিরভাগ সময় পাতার নিচে দেখা যায়, যেখানে স্ত্রী মাছি ডিম পাড়ে । ক্ষুদ্র সাদা থেকে হলুদ বর্ণের কীড়া পোকা বের হয়ে আসে এবং এদের খালি চোখে দেখা যায়। গুরুতর আক্রান্ত গাছ নাড়ালে অসংখ্য ছোট ছোট সাদা পূর্ণবয়স্ক মাছি দল বেঁধে বের হয়ে আসে। বয়স্ক পোকা অন্য সময় বিকল্প আশ্রয়ী গাছে বেঁচে থাকে।

জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

নির্দিষ্ট প্রজাতির সাদামাছি ও ফসলের উপর জৈবিক দমন ব্যবস্থা নির্ভর করে। কার্যকরী নিয়ন্ত্রণের জন্য সুগার-আপেলের তেল, পাইরেথ্রিনস, কীটনাশক সাবান, নিম বীজের নির্যাস (NSKE ৫%), নিম তেল (৫ মিলি/প্রতি লিটার জল) ইত্যাদি প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করুন । পরজীবি বোলতা এনকার্সিয়া ফরমোসা, এরেটমোসেরাস এরিমিকাস, সবুজ লেসউইং ক্রিসোপেরলা কার্নিয়া বা বিটল যেমন ডেলফাসটাস spp. সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়। প্রাকৃতিক উপকারী ও শিকারী পোকা যেমন-এরিটমোসেরাস এরিমিকাস, শিকারী মাইটস, নিমাটো সবুজ লেসউইং, লেডিবার্ড, ক্ষুদ্র শিকারী পোকা, বড়-চোখো পোকা এবং ড্যামসেল পোকা ছেড়ে দিয়েও এ মাছি দমন করা যায়। পোকার আক্রমণ দমনে জীবাণু ছত্রাক যেমন বিউভেরিয়া ব্যাসিয়ানা, ইসারিয়া ফুমোসরোসিয়া, ভার্টিসিল্লিয়াম লেকানি ব্যবহার করা হয়।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সম্ভবমতো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। রূপালীসাদা মাছি প্রায় সব কীটনাশকের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত প্রতিরোধী হতে পারে, সুতরাং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক ব্যবহারে ভাল সুফল পাওয়া যায়। যদি বিকল্প কোন ব্যবস্থা না পাওয়া যায়, তাহলে বাইফেন্থ্রিন, বুপ্রফিজিন, ফেনোক্সিকার্ব, ডেল্টামেথ্রিন, আজাডিরাক্টিন, ল্যামডা-সাইহ্যালোথ্রিন, সাইপারমেথ্রিন, পাইরিথ্রয়েডস ও পাইমেট্রজিন বা স্পিরোমেসিফেন সংঘটিত কীটনাশক ব্যবহারে ভাল ফল পাওয়া যায়। সচেতন থাকুন যে কার্যকরী দমন ব্যবস্থা প্রায় ক্ষেত্রেই মাছির সংখ্যা এমন হারে কমিয়ে দেয় যে তা আর ক্ষতিকারক হয় না।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • অনাবাসী ফসল দ্বারা সাথীফসল চাষ করুন.
  • সহযোগী ফসলের (যেমন নস্তুারশিয়াম, জিনিয়া, হামিংবার্ড বুশ, আনারস সেজ, মৌ বাম) চাষ করুন যাতে তা সাদা মাছিকে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করতে পারে.
  • আপনার প্রতিবেশী চাষীর সঙ্গে আলোচনা করে একই সময়ে বীজ বপনের ব্যবস্থা করুন, মরশুম শুরু হওয়ার খুব আগেও নয় বা পরেও নয়.
  • ঘন করে বীজ বপন করুন.
  • চারাগাছ নতুন কেনার সময়ে বা অন্যত্র বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে সাদা মাছির চিহ্ন দেখা যায় কিনা তা নিরীক্ষা করুন.
  • নিয়ন্ত্রিত হারে সার প্রয়োগ নিশ্চিত করুন.
  • উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কীটনাশকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন কারণ তা উপকারী পতঙ্গের ক্ষতি করতে পারে.
  • ডিম বা লার্ভা সহ পাতা অপসারণ করুন.
  • আক্রমণের প্রাথমিক ধাপে, মাঠে আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করুন যাতে ব্যাপক সংখ্যায় সাদা মাছি ধরা যায়.
  • আপনার জমি থেকে ও মাঠের আশেপাশে আগাছা এবং বিকল্প আবাস নিয়ন্ত্রণ করুন.
  • ফসল সংগ্রহের পর মাঠ বা গ্রীনহাউস থেকে ফসলের অবশিষ্টাংশ অপসারণ করুন.
  • উষ্ণ তাপমাত্রায় স্বল্প সময়ের জন্যে জমি অনাবাদী অবস্থায় ফেলে রাখুন.
  • আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি শোষণকারী গ্রীনহাউস প্লাস্টিক ফিল্ম আক্রমণের হার কমাতে পারে।.